শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে ভারতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে ভারতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকা সংশোধন ও কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যে দলটির নেতাকর্মীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের পাশাপাশি তার দায়িত্ব পালনকালে ভোটার তালিকা পরিবর্তন ও গৃহীত বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ স্বাধীন অডিটের দাবি জানিয়েছেন।

দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও গোয়াসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের তীব্রতা ঠেকাতে বহু জায়গায় ব্যারিকেড স্থাপন করে পদযাত্রা আটকে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানী দিল্লি এবং কলকাতায় পুলিশি বাধার মুখে নেতাকর্মীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল দাহ করেন। পাটনা ও চণ্ডীগড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। মণিপুরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। 

আসামে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে লোকসভার বিরোধী দলীয় উপনেতা গৌরব গগৈসহ কংগ্রেসের বহু শীর্ষ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে নাগরিকদের মৌলিক ভোটাধিকার এবং ভোটারের সমতার সাংবিধানিক সুরক্ষার ওপর আঘাত করা হচ্ছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের অ্যাপ্লিকেশনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা মন্তব্য করেন, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষের নেওয়া একের পর এক সিদ্ধান্ত জাতীয় পর্যায়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে, যার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক।

এই গণবিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক গণমাধ্যম প্রতিবেদন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যানুযায়ী, অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং ও বিবেক যোশী গত দশ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্দেশনা নিয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণীতে অন্তত ১৪ বার সুনির্দিষ্ট আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের মতপার্থক্যকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিভেদ হিসেবে মানতে নারাজ।

কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, একটি বহুসদস্যের সাংবিধানিক সংস্থায় অভ্যন্তরীণ পরামর্শ, মতবিনিময় এবং কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া; চূড়ান্ত সব সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সর্বসম্মতভাবেই গৃহীত হয়েছে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অপসারণের লক্ষ্যে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব তোলার বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছে কংগ্রেস। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করা হবে।