রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মেয়র হিসেবে যে ঐতিহাসিক ম্যানশনে থাকবেন মামদানি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৪:৩৫ পিএম

মেয়র হিসেবে যে ঐতিহাসিক ম্যানশনে থাকবেন মামদানি

নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি অবশেষে ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক 'গ্রেসি ম্যানশন'-এ উঠছেন। সোমবার (৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানুয়ারি মাসের এক তারিখে শপথ গ্রহণের পরই তিনি স্ত্রী রামাকে নিয়ে এই প্রাসাদে উঠবেন।

এই ম্যানশনটি ১৭৯৯ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি বেশিরভাগ নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রদের ঐতিহ্যবাহী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তিনি সেই ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টটি ছেড়ে যাচ্ছেন, যেটি তাঁর নির্বাচনী প্রচার অভিযানের সময় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী মামদানি জানান, এই সিদ্ধান্ত মূলত তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিউইয়র্কবাসী যে সাশ্রয়ী আবাসন এজেন্ডায় ভোট দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। তিনি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, "গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক বটানিক্যাল গার্ডেনের ট্রেন শোতে গিয়ে আমাদের নতুন বাড়ি দেখলাম। আমি এবং আমার স্ত্রী রামা সিদ্ধান্ত নিয়েছি জানুয়ারিতে সেখানে উঠব।

জোহরান মামদানি, যিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদ মামদানির সন্তান, তিনি কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় একটি ভাড়া নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তাঁর প্রচারণায় মূল প্রতিশ্রুতি ছিল ভাড়া না বাড়ানো, এবং তিনি তাঁর নিজের আবাসন পরিস্থিতিকে এর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি একটি মূল্যবান ভাড়া নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট দখল করে রেখেছেন।

বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ২,৩০০ ডলার প্রদান করেন, যেখানে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া এখন প্রতি মাসে ৩,৫০০ ডলার। অ্যাস্টোরিয়া ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মামদানি বলেন, "অ্যাস্টোরিয়া: আমাদের নিউ ইয়র্ক সিটির সেরা রূপটি দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। যদিও আমি আর অ্যাস্টোরিয়ায় থাকব না, অ্যাস্টোরিয়া সবসময় আমার ভেতরে এবং আমার কাজের মধ্যে বেঁচে থাকবে।

ইস্ট নদীর ধারে অবস্থিত গ্রেসি ম্যানশন একটি দেখার মতো সুন্দর প্রাসাদ। এটি মাখনের মতো হলুদ রং এবং সবুজ জানালার জন্য বিখ্যাত। জানা গেছে, পাঁচটি শয়নকক্ষ বিশিষ্ট এই প্রাসাদে মেয়র এবং তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, প্রাক্তন মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর স্ত্রী চিরলেন ম্যাকক্রে এবং বিদায়ী মেয়র এরিক অ্যাডামস দুজনেই এই ম্যানশনে অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছিলেন।