রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বার্ড ফ্লু যেভাবে ছড়াতে পারে মানুষের শরীরে: যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম

বার্ড ফ্লু যেভাবে ছড়াতে পারে মানুষের শরীরে: যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন যে, বার্ড ফ্লু বা $H5N1$ ভাইরাস যেকোনো সময় পাখি থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী এক বিশাল স্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের নতুন একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

যেখানে দেখানো হয়েছে এই সংক্রমণ কীভাবে শুরু হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি দেশে মানুষের শরীরে ৯৯০টি $H5N1$ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে ৪৭৫ জনই মারা গেছেন, যা নির্দেশ করে যে এই ভাইরাসের মৃত্যুহার প্রায় ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক কোটি পাখি এবং অন্তত ৭০ জন মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

ভারতেও বাঘ ও চিতাবাঘের মৃত্যুর মাধ্যমে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে।আশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিলিপ চেরিয়ান ও গৌতম মেনন ‘ভারতসিম’ নামে একটি ওপেন-সোর্স সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংক্রমণের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণার মূল বিষয়গুলো হলো:শুরুটা হতে পারে নীরবে: কোনো খামারকর্মী বা বাজারে কাজ করা ব্যক্তির শরীরে পাখি থেকে ভাইরাসটি ঢুকতে পারে।

বিপজ্জনক সীমা: মডেল অনুযায়ী, সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা যদি ২ থেকে ১০ জনের মধ্যে থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সংক্রমণ ১০ জন ছাড়িয়ে গেলে তা সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।সুপার স্প্রেডার ঝুঁকি: কোভিড-১৯-এর মতো বার্ড ফ্লুর ক্ষেত্রেও ‘সুপার স্প্রেডার’ তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণগুলো অনেকটা তীব্র ফ্লুর মতো—উচ্চ জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথা। গবেষকদের মতে:

পাখি নিধন: ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশের আগে এটি কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে।কোয়ারেন্টিন: প্রাথমিক সংক্রমণের পর পরিবারভিত্তিক আইসোলেশন সংক্রমণ থামাতে পারে।লকডাউন: তৃতীয় স্তরের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হলে কঠোর লকডাউন প্রয়োজন হতে পারে।ভাইরোলজিস্ট সীমা লক্ষদাওয়ালার মতে, $H5N1$ যদি স্থায়ীভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা ২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লুর চেয়েও বড় প্রভাব ফেলবে। তবে আশার কথা হলো, ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে বর্তমানে কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল ও সম্ভাব্য টিকার মজুত থাকায় বিশ্ব আগের চেয়ে কিছুটা প্রস্তুত।