রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিতে যেসব সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশিরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিতে যেসব সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত করার সিদ্ধান্তে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে যারা নিজ পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তারা এখন দিশেহারা। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর ভিসা পাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেও এই স্থবিরতার কারণে অনেক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। 

কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না দেওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে।

বিবিসি বাংলার বরাতে জানা গেছে কেবল নতুন ভিসা প্রত্যাশীরাই নন, বরং যারা ইতোমধ্যে বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পুরনো গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পুনর্মূল্যায়নের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা অভিবাসীদের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। 

এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। এই নীতির মূল কথা হলো যদি কোনো অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তা নেতিবাচক হিসেবে গণ্য হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে এমন নির্ভরশীলতা দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। 

নতুন নিয়মের ফলে এখন থেকে অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা অনেক বেশি কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এমনকি যারা আগে আত্মীয়স্বজনকে স্পন্সর করে নিয়ে এসেছেন এবং সেই আত্মীয়রা যদি সরকারি সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তবে স্পন্সরকেও সেই আর্থিক দায়ভার বহনের ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। পর্যাপ্ত আয় বা স্বনির্ভরতার নিশ্চয়তা ছাড়া এখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ভিসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল পারিবারিক ভিসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও এর ছায়া পড়েছে। 

পড়াশোনা শেষে যারা সেখানে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের জন্য চাকরির বাজার এবং ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন আরও জটিল ও সীমিত হয়ে পড়েছে। আগে পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার জন্য যে ধরনের সুযোগ পাওয়া যেত, নতুন নীতিতে তা সংকুচিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই অভিবাসন বিরোধী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এবং সেখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।