জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:১০ এএম
ইরানকে ঘিরে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘নাইন্থ এয়ার ফোর্স’ (অ্যাফসেন্ট) এই অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের একটি শক্তিশালী আকাশ মহড়া পরিচালনা করছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য প্রকাশ করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুততম সময়ে বিমান ও জনবল মোতায়েন এবং যে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার পরীক্ষা নিতেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
অ্যাফসেন্ট-এর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ‘ফ্লেক্সিবল রেসপন্স’ বা নমনীয় প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা।
মহড়ার অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অস্থায়ী ঘাঁটিতে ছোট কিন্তু অত্যন্ত দক্ষ সহায়তাকারী দল মোতায়েন করবে। এর মাধ্যমে দ্রুত বিমান ওঠানামা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এই সম্পূর্ণ কার্যক্রম স্বাগতিক দেশগুলোর অনুমোদন এবং স্থানীয় বেসামরিক ও সামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, এই মহড়া শুরুর মাত্র এক দিন আগেই মার্কিন নৌবাহিনীর পরমাণু শক্তিচালিত বিশাল বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সহায়ক যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে।
এই রণতরী বহর মোতায়েনের ফলে এই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং তেহরানের সাম্প্রতিক গতিবিধির ওপর নজর রাখতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ‘আর্মাদা’ বা বিশাল নৌবহর প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একদিকে আকাশ মহড়া এবং অন্যদিকে সমুদ্রপথে রণতরীর উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন