সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গভীর আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, অচলাবস্থার শঙ্কায় গুতেরেস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১২:২২ পিএম

গভীর আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, অচলাবস্থার শঙ্কায় গুতেরেস

বর্তমান বিশ্ব এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে কারণ খোদ জাতিসংঘই এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে দিয়েছেন যে জাতিসংঘ এখন গভীর আর্থিক সংকটের মুখে যা একে কার্যত একটি অচল অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে বকেয়া চাঁদা দ্রুত পরিশোধ এবং বর্তমান আর্থিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। 

যদি এই সংকটের সমাধান দ্রুত না হয় তবে বিশ্ব সংস্থাটি অচিরেই তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা হারাবে যা সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক জানিয়েছেন যে তহবিলের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে সংস্থাটি যেভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করত এখন সেই পরিমাণ নগদ অর্থ বা তারল্য তাদের হাতে নেই। 

ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি অবিলম্বে তাদের বকেয়া পরিশোধ না করে তবে বিকল্প কোনো পথ অবশিষ্ট থাকবে না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। যদিও এই সংকটের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের নাম নেওয়া হয়নি তবে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব এখানে স্পষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থায় অর্থায়ন কমানো এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার রক্ষার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান নিয়মে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনুযায়ী চাঁদা নির্ধারণ করা হয় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অবদান রাখে। গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে পরিস্থিতি না বদলালে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের সব নগদ অর্থ পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে পারে যা হবে ইতিহাসের এক নজিরবিহীন বিপর্যয়।

মহাসচিব গুতেরেস প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার পুরোনো নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও অর্থ ফেরতের এই বাধ্যবাধকতা জাতিসংঘকে একটি আর্থিক দুষ্টচক্রে আটকে রাখছে। বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের জন্য তাদের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে। এই তথ্যটিই স্পষ্ট করে দেয় যে জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ কতটা অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ এবং বড় দেশগুলোর অনীহা শেষ পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে অর্থহীন করে তুলবে কিনা এখন সেটাই দেখার বিষয়।