রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানি সশস্ত্র গোষ্ঠী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানি সশস্ত্র গোষ্ঠী

ইরানে হামলার প্রস্তুতি

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। এই অভিযানের কৌশল ও সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেওয়া।

 বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তখন কুর্দি যোদ্ধারা স্থলপথে আক্রমণ চালিয়ে তেহরানকে চাপে ফেলতে চায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও ইরাক সীমান্তবর্তী আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট ইতিমধ্যেই এই অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেছে। যদিও অভিযানের চূড়ান্ত সময়সূচি বা দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জোরালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দাবি করেছে। 

ইরাকি কুর্দিস্তানের শীর্ষ নেতারা এই সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে সিআইএ বা হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত এই সংবেদনশীল বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের মতো একটি শক্তিশালী দেশের অভ্যন্তরে স্থল অভিযান পরিচালনা করতে হলে কুর্দি যোদ্ধাদের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য এবং উন্নত অস্ত্রের জোগান অপরিহার্য। 

ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবারের পরিকল্পনায় কুর্দি যোদ্ধারা সরাসরি ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ শহরগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সরকারবিরোধী বিদ্রোহ আরও বেগবান হতে পারে বলে মনে করছে কুর্দি নেতারা। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে একটি বড় ধরনের অভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

তবে এই ধরনের সশস্ত্র অভিযান কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কুর্দি সশস্ত্র বিদ্রোহ ইরানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী যেমন বেলুচদের মধ্যেও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন উসকে দিতে পারে। এতে করে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলেও অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্ক এই ধরনের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ঘোর বিরোধী। তুরস্কের সীমানার কাছে কুর্দিদের শক্তিশালী হওয়া আঙ্কারার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করা হয়। ফলে কুর্দি যোদ্ধাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুর্দি যোদ্ধাদের এই সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের হার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সব কুর্দি যোদ্ধার যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সমান নয় এবং একটি নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে সিআইএ’র মতো বড় গোয়েন্দা সংস্থার সমর্থন পেলে লড়াইয়ের চিত্র বদলে যেতে পারে। সিরিয়া ও ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির ওপরও এই অভিযানের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জটিল সমীকরণের দিকে মোড় নিচ্ছে যেখানে একটি স্ফুলিঙ্গ পুরো অঞ্চলকে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে পারে।