বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৭, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

লেবাননে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ

লেবাননের পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকার নবী চিত শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি বিশেষ ছত্রীসেনা অভিযান স্থানীয় বাসিন্দা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, রাতে হেলিকপ্টারের সাহায্যে ওই অঞ্চলে ছত্রীসেনা নামিয়ে স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। 

তবে সেনারা সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ ও সশস্ত্র যোদ্ধারা পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করেন। প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং দ্রুত হেলিকপ্টারে করে এলাকা ত্যাগ করে।

এই ব্যর্থ অভিযানের পরপরই নবী চিত ও এর আশপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এসব হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে লেবাননের নিয়মিত সেনাবাহিনীর তিনজন সদস্যও রয়েছেন। 

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া গোলায় ওই এলাকার বেশ কিছু স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গেছে। মূলত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তার সরাসরি প্রভাব এখন লেবাননের ওপর পড়তে শুরু করেছে।এর আগে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বেশ কিছু রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েল।

 

গত কয়েক দিনের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। চলমান এই সংঘাতের কারণে লেবাননের প্রায় তিন লাখ মানুষ তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। তবে আবাসন সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছেন, যা দেশটিতে একটি মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলা বন্ধের দাবি উঠলেও পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে।