মার্চ ৭, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আজ ‘কঠোর আঘাত’ হানার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। শনিবার তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তীব্র হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে নতি স্বীকার করে এক প্রকার ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন ও কঠোর হামলার মুখে টিকতে না পেরেই ইরান প্রতিবেশীদের কাছে আর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, তাদের দেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর নতুন করে কোনো আক্রমণ চালানো না হয়, তবে ইরানও ওইসব দেশে আর কোনো হামলা চালাবে না।
এমনকি পেজেশকিয়ান বিগত কয়েক দিনের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ইরানের এই অবস্থানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করলেও তেহরানের পক্ষ থেকে একে একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।ইরানের নীতি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ডিপ্লো হাউসের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হামিদরেজা গোলামজাদে ট্রাম্পের এই ব্যাখ্যাকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
ইরান মূলত তার প্রতিবেশীদের এই বার্তা দিয়েছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে তাদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহার করে তেহরানের ওপর আক্রমণ করার সুযোগ না দেয়। এই অনুরোধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গত। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন হুমকির লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা জিইয়ে রাখা এবং ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা। এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সূত্র: আল জাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন