রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রথমবার ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

প্রথমবার ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

ভয়ংকর ডার্ক ঈগল

প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে অত্যাধুনিক এবং অত্যন্ত শক্তিশালী হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় আয়োজিত একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সমরাস্ত্র পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

এই ‘ডার্ক ঈগল’ ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অবিশ্বাস্য গতি। এটি শব্দের গতির চেয়েও পাঁচ গুণের বেশি দ্রুততায় উড়তে সক্ষম, যা একে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম সমরাস্ত্রে পরিণত করেছে। প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। 

শুধু গতি নয়, এই অস্ত্রের বিশেষ প্রযুক্তি একে মাঝ আকাশে নিজের পথ বা ট্র্যাজেক্টরি পরিবর্তনের সক্ষমতা প্রদান করে। এর ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ডার্ক ঈগলকে শনাক্ত করা বা মাঝ আকাশে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে। 

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে পেন্টাগন কত দ্রুত বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র মোতায়েন করার সক্ষমতা রাখে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডার্ক ঈগলের এই উপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।