বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গ্যাস–সংকটে ভারতে বন্ধ হচ্ছে হোটেল–রেস্তোরাঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

গ্যাস–সংকটে ভারতে বন্ধ হচ্ছে হোটেল–রেস্তোরাঁ

ভারতে গ্যাসের হাহাকার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জেরে ভারতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশটির বড় বড় শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, তবে রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহের ওপর এর বড় প্রভাব পড়েছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় নতুন অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ করে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস, পাইপবাহিত গ্যাস ও যানবাহনের সিএনজি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এলপিজি ও সিএনজির চাহিদার শতভাগ পূরণের চেষ্টা চালানো হবে। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হচ্ছে।

 অগ্রাধিকার তালিকার দ্বিতীয় স্তরে থাকা সার কারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য চাহিদার মাত্র ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শিল্প উৎপাদন ও অন্যান্য খাতে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের তুলনায় সরবরাহ আরও সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিটি গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোকেও বাণিজ্যিক সরবরাহে রাশ টানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভারতে প্রতিদিন ব্যবহৃত ১৯ কোটি কিউবিক মিটার গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আমদানিনির্ভর। 

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোতে ছোট-বড় অনেক হোটেল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। মুম্বাইয়ের হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন ‍‍`আহার‍‍` হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শহরের অন্তত অর্ধেক হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিনব কিছু পরামর্শ দিয়েছে। গ্যাসের ব্যবহার কমাতে খাবারের মেনু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। যেসব পদ তৈরি করতে কম জ্বালানি প্রয়োজন এবং সহজে রান্না হয়, তেমন খাবার পরিবেশনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের পছন্দের তালিকা সীমিত করার মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় ও মজুতদারি রুখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে এবং ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে ভারত এখন রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প গ্যাস আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে শোধনাগারগুলোকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উৎপাদন কমিয়ে এলপিজি উৎপাদনে বেশি নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে ভারতের বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।