বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পৃথিবীতে আজ দিন ও রাত সমান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

পৃথিবীতে আজ দিন ও রাত সমান

ছবি: Ai

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। বছরের আর দশটা দিনের মতো ২৪ ঘণ্টায় দিন-রাত হলেও আজকের দিনটি একটু ভিন্ন। আজ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান। অর্থাৎ, প্রায় ১২ ঘণ্টা আলো ও ১২ ঘণ্টা অন্ধকার। বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব। বছরে এমন দিন আসে মাত্র দুটি। প্রথমটি ঘটে ২১ মার্চ। আর আজকেরটি বছরের দ্বিতীয় ইকুইনক্স। আজ সূর্য ঠিক বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দিচ্ছে। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় গোলার্ধেই সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে সূর্যের আলো।

তবে দিন ও রাত একেবারে কাঁটায় কাঁটায় ১২ ঘণ্টা সমান হয় না। সূর্যের বিশাল আকার ও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের হিসাবে কিছুটা তারতম্য ঘটে। এ কারণেই বৈজ্ঞানিকভাবে এটিকে ‘প্রায় সমান’ বলা হয়। পৃথিবীর অক্ষের হেলন ও পরিক্রমণই এর মূল কারণ। পৃথিবী তার কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় ৬৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে এবং উল্লম্ব অক্ষ থেকে ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে আছে। সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা। এই হেলনের ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে একেক গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। কিন্তু বছরে দুবার সূর্য এমন একটি অবস্থানে পৌঁছায় যখন দুই গোলার্ধেই আলো পড়ে প্রায় সমান।

আগামীকাল থেকেই ছোট হতে শুরু করবে দিন। সূর্যের আপাত অবস্থান এখন ধীরে ধীরে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে যাবে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হতে থাকবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে শুরু হবে উল্টো চিত্র—সেখানে বাড়বে দিনের পরিধি। সাধারণত গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য উত্তর-পূর্ব দিকে ওঠে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। তখন দিন বড় ও রাত ছোট থাকে। দুপুরে সূর্য আকাশে উঁচুতে থাকায় সরাসরি বিকিরণ বেশি মেলে, ফলে বাড়ে তাপমাত্রা। শীতকালে আবার সূর্য দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে উঠে দক্ষিণ-পশ্চিমে অস্ত যায়। তখন দিন ছোট হয় এবং সরাসরি তাপ মেলে কম।

এসব কারণেই ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং ২১ ডিসেম্বর সবচেয়ে ছোট দিন। ইকুইনক্সের এই সময়ে মেরু অঞ্চলে বিশেষ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ও সৌরকণার মিথস্ক্রিয়ায় মেরুর রাতের আকাশে দেখা মেলে ‘অরোরা’ বা নানা রঙের আলোর ঝলকানি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, পৃথিবীর কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, বরং উপবৃত্তাকার। জানুয়ারি মাসে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে যখন শীতকাল, তখন এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘পেরিহেলিয়ন’। 

আবার জুলাইয়ে গ্রীষ্মকালে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি, যাকে বলে ‘অ্যাফিলিয়ন’। তবে ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ সূর্য থেকে দূরত্ব নয়। পৃথিবীর ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে থাকা এবং একই দিকে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করাই ঋতু বদলের আসল কারণ। আজকের ইকুইনক্সের পর থেকেই উত্তর গোলার্ধ ধীরে ধীরে শীতের দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ উষ্ণ সময়ের দিকে এগোতে থাকবে।