সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে বেশিরভাগ প্রশ্নে নীরব থেকেছেন জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম। তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন। তবে কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মাকছুদা জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে কান্নাকাটি করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, মাকছুদাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা এই মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে নজরুল অধিকাংশ সময় নীরব ভূমিকা পালন করেন।
মঙ্গলবার প্রথম দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে সোমবার আদালত মাকছুদাকে এক দিনের এবং নজরুলকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। আদালতে মাকছুদাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে যা তদন্তে সহায়ক হবে। ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুর সময় ফ্ল্যাটে কারা উপস্থিত ছিলেন, বিয়ের পর কেমন আচরণ করা হয়েছিল, নির্যাতন বা অন্য কারও প্রভাব ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মুখোমুখি বসিয়েও কথা বলা হয়েছে। তাদের পরিচয়, সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষ হলে সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এর আগে সংসদ ভবনের বিপরীত পাশের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই রাতেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন নিহত তরুণীর বাবা। মামলায় নজরুল ও তার স্ত্রী ছাড়াও এক আত্মীয়কে আসামি করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পলাতক। গত জুলাই মাসে তাদের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে চলতি বছরের ১৭ জুন তাদের বিয়ে হয়েছিল।
এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা চার আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুলের সংসদীয় পদ বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের জন্য বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, সংসদীয় অবস্থান নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করতে হবে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে সদস্যপদ বাতিলের নিয়ম রয়েছে।
শুধু অভিযোগ, গ্রেপ্তার বা রিমান্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক পদ বাতিল হয় না। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত ও সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো গুরুতর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি। অতীতে আচরণবিধি সংক্রান্ত বিল সংসদে উত্থাপিত হলেও তা আইনে রূপ পায়নি। পরবর্তীতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবেও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বিবরণী প্রতি বছর হালনাগাদসহ পৃথক আচরণবিধি আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন