রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালী পাহারা: ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৬, ২০২৬, ১১:০০ এএম

হরমুজ প্রণালী পাহারা: ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না মিত্ররা

সংকটে হরমুজ প্রণালী

বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে এই জলপথে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। 

অন্যদিকে ইউরোপীয় মিত্র জার্মানি ও ফ্রান্সও এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে। ইরানের কার্যকর অবরোধের মুখে থাকা এই রুটটি নিয়ে এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটে পড়েছে ওয়াশিংটন।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথেরিন কিং মার্কিন অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ক্যানবেরা হরমুজ প্রণালীতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিরক্ষা ও বিমান সহায়তা প্রদান করছি।

কিন্তু সরাসরি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ মোতায়েন আমাদের পরিকল্পনায় নেই।" অস্ট্রেলিয়ার এই অনড় অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।একই সুরে কথা বলেছে এশীয় মিত্র জাপানও। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি সে দেশের পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়ার জন্য নৌযান পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাপান এই মুহূর্তে তাদের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বাধীনভাবে কী করা সম্ভব তা পরীক্ষা করে দেখছে, তবে এসকর্ট জাহাজ পাঠানোর মতো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা একটি আন্তর্জাতিক মিশনের মাধ্যমে জাহাজ পাহারার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, তবে তা অবশ্যই বর্তমানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর। অন্যদিকে জার্মানি শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। বার্লিন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সরাসরি যুদ্ধের অংশ হতে চায় না। ইরানের এই জলপথ অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, মিত্রদের এই অনীহা ট্রাম্পের ‍‍`প্রেশার ট্যাকটিকস‍‍` বা চাপ প্রয়োগের কৌশলকে অনেকটা দুর্বল করে দিয়েছে।