রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার দেশ মধ্যপ্রাচ্যে কেবল সাময়িক কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং তারা চলমান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাপ্তি চায়। সংকট সমাধানের জন্য যেকোনো চুক্তিতে ভবিষ্যতে হামলা বন্ধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ থাকতে হবে বলেও তিনি শর্ত দিয়েছেন। 

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।আব্বাস আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কেবল ক্ষণস্থায়ী বিরতির পক্ষে নয়। 

পুরো অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে হলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান হওয়া জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যেকোনো টেকসই সমাধানের জন্য ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ যাতে নতুন করে হামলা না চালায়, তার গ্যারান্টি থাকতে হবে। এর পাশাপাশি ইরান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যে পরিমাণ জানমালের ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও টেবিলে থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত আলোচনার বিষয়ে ওঠা গুঞ্জন প্রসঙ্গে আরাগচি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরাসরি আলোচনা চলছে না। বর্তমানে যা হচ্ছে তা কেবল কিছু বার্তা আদান-প্রদান মাত্র। এই যোগাযোগগুলো মূলত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি বিশেষ চ্যানেলে সীমাবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের মতোই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া যাচ্ছে, তবে সেটিকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক সংলাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এসব বার্তা আদান-প্রদান মূলত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও কিছুটা যোগাযোগ থাকে। তবে ইরানের ভেতরে অন্য কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো গোপন আলোচনা চলছে না। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব বার্তার মাধ্যমে মূলত উভয় পক্ষ নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্ভাব্য সতর্কবার্তা একে অপরের কাছে পৌঁছে দেয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। আরাগচি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি এবং কোনো নতুন শর্ত বা প্রস্তাবও পেশ করেনি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইরানের জনগণকে হুমকি দিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে কখনোই কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে ইরানকে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে।

এদিকে সমুদ্র পথের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি বলেন, বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা এবং সচল রয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বা সরাসরি দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে, তাদের জন্য এই পথ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেহরান নিশ্চিত করেছে। আরাগচির এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।