মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ট্রাম্পকে সরাতে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে কমিশন গঠনের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

ট্রাম্পকে সরাতে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে কমিশন গঠনের প্রস্তাব

ট্রাম্পকে সরাতে নতুন কমিশন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ঝড় তুলেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর অধীনে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। মূলত ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষ করে, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে দেশটির ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে তুলনা করে পোস্ট দেওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে। 

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প এখন আর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন বলে দাবি করছেন সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনানসহ অনেক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা। জেমি রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন যে, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তার ওপর জনগণের আস্থা নজিরবিহীনভাবে কমেছে।প্রস্তাবিত এই বিলে ইতিমধ্যে আরও ৫০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। 

এই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হবে প্রেসিডেন্ট তার অর্পিত দায়িত্ব পালনে বর্তমানে সক্ষম কি না, তা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারণ করা। এই কমিটিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের মনোনীত চারজন সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আটজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞসহ মোট ১৭ জন সদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি মনে করেন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।

তবে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেহেতু মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজ এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে, তাই ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ সফল হওয়ার পথ অনেকটা রুদ্ধ। 

এর আগে ২০২৪ সালেও জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির সময় রিপাবলিকানরা একই ধরনের দাবি তুলেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ট্রাম্প সেই নির্বাচনে কমালা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরলেও তার মেয়াদের শুরু থেকেই এই ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কের মুখোমুখি হলেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস এই নজিরবিহীন প্রস্তাবের জবাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।