এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া বা যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের চাপের শিকার হননি বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ এপ্রিল) নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল তাকে কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে প্রভাবিত বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেনি। যদিও এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন।
ট্রাম্প সেই সব ধারণা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাঁর প্রশাসন নিজস্ব রণকৌশল অনুযায়ী কাজ করছে।৭ অক্টোবরের ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে তাঁর অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় হয়েছে। তবে তিনি একই সাথে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সে বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে তেহরানের সাথে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে এটিও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ও স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বা তদারকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আশাবাদী মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল ও কৌশলগত বিষয়ে ইরানের অবস্থান কোনো কথার ওপর নয়, বরং বাস্তব পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর একটি কৌশল হতে পারে। একদিকে তিনি ইসরায়েলের সাথে সুসম্পর্কের কথা বজায় রাখছেন, অন্যদিকে ইরানের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর বার্তাও দিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী অবস্থানের মাধ্যমে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই নতুন কূটনৈতিক সুর ইরান কীভাবে গ্রহণ করে এবং আগামী দিনে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে কী পরিবর্তন আসে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন