শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফের বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

ফের বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কতা

জাপানে ভূমিকম্পের সতর্কতা

জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এবার দেশটিতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে ৮ দশমিক ০ বা তারও বেশি মাত্রার মেগা আর্থকোয়াক বা বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। 

এই সতর্কবার্তার পর থেকেই পুরো জাপানজুড়ে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জাপানে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সুনামির ভয়ে ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার ইওয়াতে প্রেফেকচার সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার উত্তরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। 

এই কম্পনের পরপরই হনশু ও হক্কাইদো অঞ্চলে তিন মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। যদিও বাস্তবে উপকূলে সর্বোচ্চ ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।সুনামির আশঙ্কায় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী এলাকা ছেড়ে উঁচু স্থান বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাইরেন এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে শুরু করেন। অনেক এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল আগেভাগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে জাপানের বিখ্যাত বুলেট ট্রেন চলাচল বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

তবে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ছোট-বড় ভূমিকম্প নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৫০০টির মতো ভূমিকম্প হয়ে থাকে, যা বিশ্বের বড় ভূমিকম্পগুলোর প্রায় দশ শতাংশ।

 ২০১১ সালে একই অঞ্চলের কাছাকাছি ৯ দশমিক ০ মাত্রার এক ভয়াবহ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ওই সময় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, তার ক্ষত আজও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি জাপান। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার যেকোনো বিপদের আগে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করেছে দেশটির সরকার।