রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

হুঁশিয়ারি দিলেন স্পিকার গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে ইরান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে তিনি সুযোগ থাকতেই বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।গালিবাফের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মার্কিন সম্পদের বিশৃঙ্খল বিক্রি ঠেকাতে ইরান কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। 

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অনেক বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যে তাদের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে অদৃশ্য বা গোপন সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ বিক্রির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হতে পারে। 

বিষয়টি অত্যন্ত সময়-সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিক লেনদেনের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের বন্ড মার্কেটের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ওয়াশিংটন মূলত ট্রেজারি বন্ডের আয়ের আকস্মিক ওঠানামা বা ‘ইয়িল্ড কার্ভ’ নিয়ন্ত্রণ করে অস্থিরতা ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সূত্র টেনে বলেন, মার্কিন প্রশাসন মিত্র দেশগুলোর জন্য কারেন্সি সোয়াপ চুক্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার চিন্তা করছে। 

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। সেদিন এক বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের নিহতের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান নিয়মিত বিরতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। 

অন্যদিকে তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য বর্তমান মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন আর্থিক নিরাপত্তা জাল তৈরির বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।