মে ১৩, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করতে চীন পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি ওয়াশিংটন থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বুধবার (১৩ মে) থেকে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তিনি দেশটিতে অবস্থান করবেন।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরটি আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর স্থগিত করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি চীন সফরে যাবেন। তবে যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থাতেই তিনি এই রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এক বিবৃতিতে জানান, যুদ্ধ চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীনে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। একইসাথে এমন পরিস্থিতিতে চীন তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছে, যা কিছুটা অস্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চীন এবং ইরান দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ এবং একে অপরের বাণিজ্যিক অংশীদার। গত ৪০ দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করছে। এছাড়া ইরানি বন্দরগুলোতে বর্তমানে নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন বাহিনী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরটি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগিয়েছে।
বিশ্লেষক কুর্ট কাম্পবেলের মতে, চলমান উত্তেজনার মাঝেও ট্রাম্পের বেইজিং যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশেরই গভীর স্বার্থ জড়িত রয়েছে। বিশেষ করে দুই পরাশক্তির মধ্যে থাকা ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে দুই দেশের বাণিজ্য ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন