মে ১৩, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডে হওয়া হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে অবগত দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং দুইজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে প্রকাশ্যে না আসা এসব হামলা সৌদি আরবের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইরানের মাটিতে সরাসরি সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে এল।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমানবাহিনী গত মার্চের শেষ দিকে ইরানের অভ্যন্তরে এসব হামলা পরিচালনা করে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে ইরানের হামলার জবাবে ‘প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাত’ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে সম্পর্কে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিষয়টি নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।১০ সপ্তাহব্যাপী এই সংঘাতে নিজেদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে দেখতে পাওয়ায় রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করার পর এই সংঘাত বিস্তৃত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে তেহরান।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, ইরানি হামলার শিকার হয়ে তারা এখন সরাসরি জবাব দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে।
তবে দুই দেশের কৌশলে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি আরব প্রকাশ্যে উত্তেজনা না বাড়িয়ে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলমান ছিল।পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরব হামলার বিষয়টি ইরানকে অবহিত করেছিল এবং এরপরই দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। রিয়াদ থেকে আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর দুই দেশ উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছায়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের সপ্তাহেই এই উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলী ভাইজ বলেন, এই পাল্টা হামলা ও পরবর্তী সমঝোতা প্রমাণ করে যে উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের মূল্য অনেক বেশি। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলেও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের নতুন করে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ সক্রিয় রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন