রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লেবাননে হামলা নিয়ে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি ভ্যান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

লেবাননে হামলা নিয়ে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি ভ্যান্সের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা ইরান চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার জন্য ইসরায়েল সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের কাছ থেকে মারাত্মকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই তাদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হিসেবে অবশিষ্ট আছে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন।অনানুষ্ঠানিক ওই ব্রিফিংয়ের শেষভাগে ভ্যান্স বলেন যে তিনি যদি ইসরায়েলের বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য হতেন তবে পুরো বিশ্বে একমাত্র যে শক্তিশালী মিত্রটি টিকে আছে তাকে অন্তত আক্রমণ করতেন না। 

প্রায় চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে ট্রাম্প  বা প্রশাসনের সম্পর্ক যে কতটা তিক্ত হয়ে উঠেছে এই বক্তব্য তারই সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য প্রমাণ। ভ্যান্স তাঁর বক্তব্যের বেশির ভাগ সময়জুড়ে ইরানের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষে জোরালো সাফাই গান। এই চুক্তিতে ইসরায়েল সরাসরি কোনো পক্ষ না থাকলেও চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী তাদের লেবাননে সামরিক হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

এই বিশেষ চুক্তির বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির দীর্ঘদিনের কড়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে ইরান বন্ধ করে দেওয়া কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আবার আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য খুলে দিতে রাজি হয়েছে এবং কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন যে সমঝোতা স্মারকের লেবানন সংক্রান্ত অংশটি মেনে চলতে তাঁরা কোনোভাবেই বাধ্য নন। 

এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যা শেষ পর্যন্ত ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি বড় পুনর্বাসন তহবিল গঠনের দিকে যেতে পারে।সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজে এ পর্যন্ত এই চুক্তিটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর অনুগত ও সমমনা ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক দলের তীব্র সমালোচনা করে যাচ্ছে। তারা ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ইসরায়েলকে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। 

এসব আক্রমণের জবাবে জে ডি ভ্যান্স মনে করিয়ে দেন যে ইসরায়েলের ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা অস্ত্রের চার ভাগের তিন ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এবং এর যাবতীয় খরচও তারাই জুগিয়েছে।ভ্যান্স আরও বলেন যে ইসরায়েলের যাঁরা মনে করছেন তাঁদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁদের এবার ঘুম থেকে ওঠা উচিত এবং বাস্তব পরিস্থিতিটা বোঝা দরকার। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল সরকারের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গেও প্রায় প্রতিদিনই কথা বলছে। ইরান চুক্তির আলোচনায় যখন যুক্তরাষ্ট্র এক বড় ধরণের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: টাইম