রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দল থেকে মমতাকে অপসারণ ও অভিষেককে বরখাস্তের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২২, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

দল থেকে মমতাকে অপসারণ ও অভিষেককে বরখাস্তের ঘোষণা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন বড় ধরনের সংকট ও তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বড় বিদ্রোহী অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলীয় চেয়ারপারসনের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চূড়ান্তভাবে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে।একই সঙ্গে দলের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে এই শক্তিশালী গোষ্ঠী।

কলকাতার নিউ টাউনের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মূল দল থেকে বহিষ্কৃত প্রবীণ নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির অনুসারীরা এই পাল্টা সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি অনুযায়ী এই বিশেষ পুনর্গঠন বৈঠকে দলের ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার ৭০ জন কাউন্সিলর সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। 

বৈঠকে প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দাবি করা হয় যে দলের বর্তমান সাংবিধানিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যেই এই জরুরি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঋতব্রত ব্যানার্জি জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর তা আর নবায়ন করা হয়নি।

এই নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের কারণে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তৃণমূল কংগ্রেস দলটি বর্তমানে কার্যত তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দল এবং অন্যদিকে ঋতব্রতের নেতৃত্বে গঠিত নতুন অংশ। এছাড়া লোকসভার একাংশের কয়েক ডজন সদস্য ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিল্লির সংসদে ক্ষমতাসীন জোটকে সমর্থন দিচ্ছেন। এই ত্রিভুজ সংকটের কারণে দলটির প্রকৃত আইনি নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে।

বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল নির্বাচনি প্রতীকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি দলটির প্রায় এক হাজার একশ কোটি রুপির বিশাল স্থায়ী তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।