রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন এলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২৩, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন এলন মাস্ক

নিজেদের মালিকানাধীন রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানির শেয়ারের টানা তিন দিনের নজিরবিহীন দরপতনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্রাসের মুখে পড়েছে। বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের সর্বশেষ রিয়েল-টাইম হিসাব অনুযায়ী, মাস্কের মোট ব্যক্তিগত সম্পদ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

অর্থাৎ মাত্র সাত দিনে তাঁর মোট সম্পদ থেকে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে।ব্যক্তিগত ধনকুবেরদের তালিকায় এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ল্যারি পেজের মোট সম্পদের চেয়েও অনেক বেশি, যা আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অথচ চলতি মাসেই স্পেসএক্সের রকেট, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসা নিয়ে গঠিত মূল কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব ব্যাপক সাড়া ফেললে ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন এলন মাস্ক। 

প্রথম তিন দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে এরপর থেকেই শুরু হয় টানা পতন, যার ফলে সামগ্রিক বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে এখন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।এর আগে ২০২২ সালেও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের বড় পতনের কারণে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ এক ধাক্কায় প্রায় ১৬৫ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত কোনো একক ব্যক্তির সবচেয়ে বড় সম্পদ হ্রাসের রেকর্ড ছিল। 

মূলত স্পেসএক্সে তাঁর ৩৮ শতাংশ মালিকানা, টেসলাতে ১১ শতাংশ অংশীদারিত্ব এবং আরও কয়েকটি উদীয়মান স্টার্টআপে করা ব্যক্তিগত বড় বিনিয়োগ থেকেই মাস্কের এই বিপুল সম্পদের উৎস। তবে সোমবার স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখোমুখি হয় যখন তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগের জন্য অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পরপরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয় এবং কোম্পানিটির শেয়ারের দাম একদিনেই ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়।

বর্তমানে স্পেসএক্সের হাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি নগদ অর্থ জমা রয়েছে বলে কোম্পানির তরফ থেকে দাবি করা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিপুল ব্যয়ের অর্থায়ন নিয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের সংশয় কাটছে না। এদিকে বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অতি-উচ্ছ্বাস এখন কমতে শুরু করেছে। 

সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেসডাক সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে এবং সেই সঙ্গে বিশ্বের অন্য দুই শীর্ষ জায়ান্ট অ্যালফাবেটের শেয়ার ৫ শতাংশ ও আমাজনের শেয়ার ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এমনকি এআই চিপ নির্মাতাদের শেয়ার বিক্রির প্রচণ্ড চাপে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার কসপি সূচক এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় সেখানে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ