জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই দাবানলে আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লস গায়ার্দোস এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দাবানল অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দাবানলটি বেদর গ্রামের আশেপাশে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ ইউরোপে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার এক টানা তাপপ্রবাহ চলছে, যা স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালে দাবানলের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটি পোড়া গাড়ির ভেতরে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবামন্ত্রী আন্তোনিও সানজ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেদর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দাবানল শুরুর মুহূর্তে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দৃশ্যটি ছিল অনেকটা বোমার বিস্ফোরণের মতো।
অনেক ব্রিটিশ নাগরিক আলমেরিয়া অঞ্চলে বসবাস করেন। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট জানিয়েছেন, কনস্যুলার সার্ভিসগুলো ওই অঞ্চলে বসবাসরত বেলজিয়াম নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, দাবানলের কারণ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ লাইনের ছিঁড়ে পড়াকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। যদিও স্থানীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দাবানলের ভয়াবহতা ইতিহাসে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৪ সালে ক্যানারি দ্বীপে ২০ জন এবং ১৯৭৯ সালে লরেত দে মারের কাছে এক দাবানলে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, বাতাসের গতিবেগ কমে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও দাবানলের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশগুলোর একটি, যা পানিসংকট ও দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন