জুলাই ২৩, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে. এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ইসরাইলও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে.চুক্তিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা ও পর্যালোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান ১২৩ চুক্তি নামে পরিচিত এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন. মার্কিন প্রশাসন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে যৌথ সমীক্ষার পর সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। এখন এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে. মার্কিন জ্বালানি সচিব দাবি করেছেন যে এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখবে।
তবে চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অতিরিক্ত প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন. এই ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে. পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরব যদি সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জন করে, তবে তা ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে. এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই চুক্তির সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো পূর্বশর্ত যুক্ত করা হয়নি. এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন প্রশাসন এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিনিময়ে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছিল. বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রশাসন সেই শর্ত বাদ দিয়ে সৌদি আরবকে একটি বড় কূটনৈতিক সুবিধা প্রদান করেছে. মার্কিন কংগ্রেসের বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতারাও এই চুক্তি নিয়ে নিজেদের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এক কংগ্রেসম্যান মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবকে একই সুযোগ দিচ্ছে যার মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলো লাভবান হবে. মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এই চুক্তি নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে. তেহরান তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ দাবি করলেও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন