জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে মালয়েশিয়া। মার্কিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কুয়ালালামপুরের সঙ্গে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হলেও কুয়ালালামপুর তাদের দীর্ঘদিনের নীতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে মালয়েশিয়ার এই সংহতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বরাবরই অত্যন্ত জোরালো।মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান যে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকুবকে ডেকে পাঠিয়েছিল। সেই বৈঠকে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেশের পূর্বনির্ধারিত ও অটল কূটনৈতিক অবস্থান ওয়াশিংটনকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং গোড়া থেকেই দেশের প্রতিটি সরকার এই স্বাধীন ও স্বাধীনতাপন্থী নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে আসছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান যে, কুয়ালালামপুরের বর্তমান অভিবাসন নীতি অনুযায়ী ইসরাইল রাষ্ট্র কিংবা সেখানকার কোনো জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীকে বিন্দুমাত্র বৈধতা দেওয়া হয় না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমনকি ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অবিচারের প্রতিবাদে ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের দেশটিতে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে মালয়েশিয়া প্রশাসন। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও একই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে কুয়ালালামপুরের এই আপসহীন নীতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন