অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির রাজপথে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি ও ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবারের ধারাবাহিকতায় শনিবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকা। আন্দোলনকারীরা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ একের পর এক ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের চরম সংঘাত শুরু হয় এবং পুলিশ বেশ কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল এগোতে চাইলে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শুক্রবার থেকেই দিল্লির রাজপথে নামে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে আম আদমি পার্টি ছাড়াও কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলো দিনভর বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ওই সময় বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও তীব্র বাকবিতণ্ডায় উত্তাল হয়ে ওঠে যন্তর মন্তর এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী বা সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আম আদমি পার্টির নেত্রী ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, বিশিষ্ট সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসা নেত্রী নেহা বোরা। শনিবার নতুন করে পথে নামে আইসার নেতা-কর্মীরা। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে সকাল থেকেই পুরো নয়াদিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং একাধিক সারিতে ব্যারিকেড বসানো হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, যন্তর মন্তর বা তার আশপাশে কোনো ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি কিংবা মিছিল করার সরকারি অনুমোদন নেই।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই শত শত মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে পা মেলান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও প্রশান্ত ভূষণের মতো বিশিষ্ট নাগরিকেরা। মিছিলটি যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ মাঝপথেই কঠোরভাবে আটকে দেয় এবং বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা সড়কেই বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে শুক্রবারই আইসা নেত্রী নেহা বোরা যন্তর মন্তরে পুনরায় জমায়েত হওয়ার প্রকাশ্য ডাক দিয়েছিলেন।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুপুরের পর থেকে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আইসার নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নেন, তবে যাত্রা শুরুর আগেই শুরু হয় পুলিশের অভিযান।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ নতুন করে দিল্লি চলো কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দেশের ককরোচ-বাহিনী মিছিল নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবে। দিল্লি পুলিশকে সতর্ক করে তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ তাদের যেখানেই আটকানোর চেষ্টা করবে, সেই স্থানটিই যন্তর মন্তরে পরিণত হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন