রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশে এসেছিলেন ওয়াংচুক, ভারতীয় পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫, ১২:২৯ পিএম

বাংলাদেশে এসেছিলেন ওয়াংচুক, ভারতীয় পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

ছবি - সংগৃহীত

লাদাখের নেতা সোনম ওয়াংচুককে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এ (এনএসএ) গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগ ও বাংলাদেশে সফর নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাটি বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

বিশ্বজুড়ে পরিচিত লাদাখ রাজ্য মর্যাদা আন্দোলনের নেতা এবং শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করার পর তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ভারতীয় পুলিশ। লাদাখ পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) এস. ডি. সিং জামওয়াল শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে ওয়াংচুকের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। ডিজিপির দাবি, ওয়াংচুক সীমান্তের ওপারে তথ্য পাঠাতেন এবং তার এই কার্যকলাপের রেকর্ড পুলিশের হাতে রয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিলেন ওয়াংচুক। তবে গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) লেহ অঞ্চলে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে চারজন বিক্ষোভকারী নিহত হন।

এই ঘটনার নেপথ্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (এনএসএ) এর আওতায় মামলা করা হয়েছে। এই আইনে জামিন ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে আটক রাখার সুযোগ থাকে।

ডিজিপি জামওয়াল আরও জানান, ওয়াংচুক সম্প্রতি পাকিস্তানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন এবং বাংলাদেশেও সফর করেছেন। পুলিশের বক্তব্য পরিষ্কার, ওয়াংচুক অতীতে বারবার উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তিনি আরব বসন্ত, নেপাল এবং বাংলাদেশের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে স্থানীয় মানুষকে উসকেছিলেন। পুলিশের দাবি, তারই উসকানিতে সহিংসতা ছড়িয়েছে। ডিজিপির কথায়, “এই প্রক্রিয়ায় কিছু তথাকথিত পরিবেশবাদী কর্মীও জড়িত ছিলেন।

তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা পুরো প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। আর এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন সোনম ওয়াংচুক।” বর্তমানে ওয়াংচুককে রাজস্থানের জোধপুরে একটি বিশেষ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনায় লাদাখে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় এই নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।