সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধবিরতিতে ঘরে ফেরার ঢল, গাজায় ফিরছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৫, ০৯:৫১ এএম

যুদ্ধবিরতিতে ঘরে ফেরার ঢল, গাজায় ফিরছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি

ছবি - সংগৃহীত

দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজ ভূমি উত্তর গাজার দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উপকূলীয় সড়কগুলো থেকে সরে গেলে পায়ে হেঁটে, গাধার গাড়িতে বা লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনে করে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে।

গাড়ি, সাইকেল এবং পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ তাদের ফেলে আসা ঘরবাড়ির দিকে ছুটছেন। দীর্ঘ দুই বছর পর সংঘাত থামায় তাদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও, অধিকাংশই ফিরছেন একরাশ অনিশ্চয়তা আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে, কারণ অনেকেরই বাড়িঘর আর আস্ত নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার অগ্রবর্তী অবস্থানগুলো থেকে একটি নতুন, সম্মত সীমারেখায় ফিরে যাবে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত মেনে নতুন অবস্থানে সরে গেছে।তবে, যারা বাড়ি ফিরছেন তাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খান ইউনিসে ফিরে আসা এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, “এখানে কিছুই অবশিষ্ট নেই, শুধু ধ্বংসস্তূপ।”

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি আশার আলো দেখালেও, এই শান্তি কতটা স্থায়ী হবে এবং বিধ্বস্ত জীবনের পুনর্গঠন কীভাবে হবে, তা নিয়েই এখন সকলের মনে গভীর সংশয়।