অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ১২:১৯ পিএম
যুক্তরাজ্য সম্প্রতি চীনের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার ইউলং পেট্রোকেমিক্যাল কম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউলং কম্পানির সঙ্গে তাদের পূর্বনির্ধারিত বিক্রয়চুক্তি বাতিল করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য এবং কানাডা থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের চুক্তিও রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার তেলের রাজস্ব কমানো, যা মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চীনের শানডং প্রদেশে অবস্থিত এই নবনির্মিত ইউলং রিফাইনারি প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল শোধনের ক্ষমতা রাখে এবং এটি রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারক বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকার ইউলংসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার পর ইউরোপের জায়ান্ট কোম্পানি টোটালএনার্জিস ও বিপি, মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সৌদি আরামকো ও কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি), আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউস ট্রাফিগুরা এবং এমনকি চীনের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোচায়না ইন্টারন্যাশনালও ইউলংয়ের সঙ্গে তাদের বিক্রয়চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাতিল হওয়া এসব চুক্তির আওতায় বেশিরভাগ তেলই আগামী ১৩ নভেম্বরের পর স্পট কার্গো হিসেবে লোড হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে কুয়েত পেট্রোলিয়াম এবং সৌদি আরামকোর দুটি পৃথক চালান অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার প্রতিটিতে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল সরবরাহের কথা ছিল। এছাড়া পেট্রোচায়না ও টোটালএনার্জিস কানাডার বিশেষায়িত ‘অ্যাকসেস ওয়েস্টার্ন ব্লেন্ড’ নামক ভারী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের চুক্তিও বাতিল করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষস্থানীয় ট্রেডিং হাউস ট্রাফিগুরা প্রতি মাসে ইউলংকে ওমান এবং আবুধাবির আপার জাকুম গ্রেডের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করত, যা নিষেধাজ্ঞার পর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এই চুক্তি বাতিলের ঘটনা ইউলংয়ের কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক তেলের সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন