এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও সহজ ও মানবিক করতে সরকার এক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জুলাই যোদ্ধা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং গুম হওয়া ব্যক্তি বা তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এখন থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা-২০১৪ সংশোধন করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনটি আগামী সপ্তাহেই জারি হতে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিচারপ্রার্থী অসহায় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আর্থিক অসচ্ছলতা বা নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যাঁরা বিচার থেকে বঞ্চিত হন, তাঁদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতেই মূলত প্রণীত হয়েছিল আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০।
২০০৯ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তার প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই কার্যক্রম মূলত বাস্তব রূপ পায় এবং দেশজুড়ে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে এই সেবা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সরাসরি সরকারি খরচে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগে ২০১৪ সালের নীতিমালায় কিছু বিশেষ দিক যুক্ত করে আইনি সহায়তার আওতা বাড়ানো হয়েছিল যেখানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা অসচ্ছল ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
নতুন এই সংশোধনের মাধ্যমে পূর্বের তালিকার সাথে জুলাই যোদ্ধা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং গুমের শিকার ব্যক্তি বা তাঁদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সহায়তার পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত হলো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৮৮টি মামলায় অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭০ জন মানুষ বিভিন্ন ধরনের আইনি সেবা ও পরামর্শ গ্রহণ করেছেন।
বিনামূল্যে আইনি সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার প্রতি বছর ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করে থাকে। এ বছরও দিবসটি পালনে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় ও জেলা পর্যায়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল-ফ্রি নম্বরে কল করে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬১ জন মানুষ সরাসরি আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। আইন ও বিচার বিভাগের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অধিকারবঞ্চিত মানুষেরা আইনি লড়াইয়ে নতুন করে সাহস পাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে জুলাই আন্দোলনের ক্ষতিগ্রস্তরা আরও দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার সুফল ভোগ করতে পারবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন