বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ সংগ্রহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ সংগ্রহ

হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

মামলা দায়েরের দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বড় ধরনের অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে সংগৃহীত নমুনাটি তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মেলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করে পিবিআই। বুধবার বিকেলে তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাফিজুরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুমিনুল হক শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করার আগেই রাজধানীর সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম সন্দেহভাজন কোনো আসামির ডিএনএ নমুনা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হলো। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হলেও এতদিন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়নি। গত ৬ এপ্রিল পিবিআই তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে আদালতে তিন জনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করলে আদালত তাতে সম্মতি দেন। এই তিন জনের তালিকায় হাফিজুর রহমান ছাড়াও রয়েছেন তৎকালীন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তারা উভয়েই বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে রয়েছেন।

এদিকে তনুর বাবা ও মামলার বাদী ইয়ার হোসেন দাবি করেছেন যে সন্দেহভাজন তালিকায় থাকা সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয় বরং জাহিদ হবে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতির প্রেক্ষিতে বাকি সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারের জোরালো চেষ্টা চলছে। পিবিআই এখন সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে যা এই দীর্ঘসূত্রিতা কাটানোর ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্মর্তব্য যে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকলেও নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষা শুরুর পর নিহতের পরিবারের মনে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশার সঞ্চার হয়েছে।