রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

এক মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল

সুমনের জামিন বহাল

রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এই আদেশ প্রদান করেন। 

আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে জুলাই-আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে করা এই নির্দিষ্ট মামলায় সুমনের জামিন বহাল থাকল। তবে জামিন বহাল রাখার পাশাপাশি হাইকোর্টের জারি করা রুলটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ যিনি এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন যে তিনি পুলিশের সাথে যাচ্ছেন এবং তাকে দোয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। 

এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর ও খিলগাঁও থানা ছাড়াও নিজ জেলা হবিগঞ্জে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে এসব আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। এর আগে হাইকোর্ট তাকে মিরপুর থানার ওই মামলায় জামিন দিয়ে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের সেই জামিন আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকায় আসে। আজ আপিল বিভাগ দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তেই সায় দেন এবং জামিন বহাল রাখেন। 

ব্যারিস্টার সুমন হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা তুলে ধরে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে সুমনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা থাকায় এখনই তার কারাগার থেকে মুক্তির সম্ভাবনা কম তবে আজকের এই আদেশ তার আইনি লড়াইয়ে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের উত্তেজনার মাঝে এই ধরনের বিচার বিভাগীয় আদেশগুলোর দিকে এখন সারা দেশের মানুষের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।