রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, জেল থেকে হিসাব চাইলেন সুমন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, জেল থেকে হিসাব চাইলেন সুমন

হিসাব চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে কারাবন্দি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের নামে বিশেষ বরাদ্দকৃত প্রায় ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এমপি কোটায় তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া এই বিপুল অর্থের হিসাব সম্প্রতি জেল থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন তিনি।

 পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের জন্যও তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের অনুরোধ জানিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ব্যারিস্টার সুমন বর্তমান সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে যে, ব্যারিস্টার সুমন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁর বরাদ্দের ওই ৫০ লাখ টাকা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফয়সাল ও কয়েকজন অসাধু ঠিকাদার ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে আনিসুর রহমান রতন নামে একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে তৎকালীন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ এবং রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।আনিসুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, যথাযথ পিআইসি কমিটি বা টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। 

এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার না হলে তা মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এখানে তা করা হয়নি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নামমাত্র কয়েকজন ঠিকাদারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ঠিকাদারদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো জনসমক্ষে আসেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতির মাঠেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এস.এ সাজন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যারিস্টার সুমন না থাকার সুযোগে কারা এই সরকারি টাকা উত্তোলন করল? অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি.এম. সরফরাজ জানিয়েছেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই এবং অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক এরশাদ আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা পেলে তাঁরা তদন্তে নামবেন।