অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:০০ এএম
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও ঝুলে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসামিদের করা আপিলের শুনানি কবে শুরু হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে আবরারের পরিবার। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন সময়ে সারাদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের দেওয়া সেই সাজা বহাল রাখেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল ও নিয়মিত আপিল দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আপিল শুনানি এখনও শুরু হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে শুনানি দ্রুত শুরু করার মূল উদ্যোগ আসামিপক্ষকেই নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যদি মনে করেন তারা খালাস পাবেন, তবে আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির দায়িত্ব তাদের আইনজীবীদের। আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ মূলত বিবাদী হিসেবে অবস্থান নেয়। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার পক্ষে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। চূড়ান্ত শুনানিতেও আসামিদের সাজা বহাল রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। একই সাথে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অযথা বিলম্ব না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
এদিকে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ দ্রুত শুনানি শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ছেলের হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনও সমাপ্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং দ্রুত শুনানির আশ্বাস পেয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং কোনো সন্তানকে যাতে এভাবে জীবন দিতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, কেবল ভিন্নমতের কারণেই আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা নিজেদের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করলেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কোনো দায় এড়াতে পারেন না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন