অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
অসংলগ্ন তথ্য প্রদান, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সন্দেহে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটকের সময় তিনি একটি পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন। তবে তদন্তে তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরমিল ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বাংলাদেশে তার অবস্থান ও একাধিকবার গমনাগমন সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে পরস্পরবিরোধী দাবি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও রবিউলের পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদের নাম উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান যে গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। তিনি ব্যবসায়ের কথা বললেও মূলত বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থানকালে রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং সংরক্ষিত এলাকার ছবি তুলেছেন। একই সাথে তিনি গোপন সরকারি নথি ও কৌশলগত তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে প্রেরণের অপচেষ্টা চালান এবং বিদেশি সংস্থার গুপ্তচরদের নানাভাবে সহায়তা দেন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার সন্দেহে প্রথমে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। এরপর দুই দফায় মোট আট দিন রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর আওতায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত গুপ্তচরবৃত্তির মামলা দায়ের করা হলে আদালত নতুন করে এই রিমান্ড আদেশ দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন