অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
দেশের কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই লাখ ৬০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের সার ক্রয় ও আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির ৪৭তম বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আসন্ন কৃষি মৌসুমে কোনো ধরনের ঘাটতি এড়াতেই এই উদ্যোগ।
বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট ১৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সার সংক্রান্ত সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন পায়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সারের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা কাফকো বাংলাদেশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় লটের আওতায় ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া কেনা হবে। এতে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যেখানে ব্যাগিং চার্জসহ প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও বড় চালানে ইউরিয়া আনছে সরকার। সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে দশ শতাংশ কম-বেশির সুযোগ রেখে ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি টনের দাম পড়বে ৪৬৩ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে একই সুযোগ রেখে আরও ৪০ হাজার টন বাল্ক ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চালানে মোট ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৫৪৫ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি চুক্তির অধীনে ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার আমদানির চারটি প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। এর আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে চার ধাপে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি সার আসবে। এর মধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম লটের প্রতিটিতে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন আমদানিতে ব্যয় হবে ৮৬৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি লটের জন্য ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং টনপ্রতি দাম ৮৭৭ মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে।
একই মরোক্কান সরবরাহকারী থেকে অষ্টম লটে ৩০ হাজার টন টিএসপি আমদানিতে খরচ হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে টনপ্রতি খরচ ধরা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। এছাড়া নবম লটে আরও ৪০ হাজার টন টিএসপি সার ৩৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকায় কেনা হবে, যার প্রতি টনের মূল্যও একই রাখা হয়েছে। কৃষি মৌসুমে যাতে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সারের সংকটে পড়তে না হয় এবং বাফার গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই এসব ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন