বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে সুখবর দিলেন গভর্নর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে সুখবর দিলেন গভর্নর

একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা আগামী সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দেওয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন।

বর্তমানে পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তি চলছে এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। একই সঙ্গে, ডিপোজিট গ্যারান্টি এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহ থেকে এই অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ডলারের দাম আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শ অনুযায়ী পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পথে বাংলাদেশ এগোয়নি। তিনি মনে করেন, যদি সেটি করা হতো, তবে মুদ্রার দাম শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারত এবং বর্তমানে হয়তো ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছাত। তিনি বলেন, 'আমরা সব ক্ষেত্রে তাদের কথা শুনিনি। অনেকেই এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তবে আজ আমাদের মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে আছে।

 তিনি আরও জানান, মুদ্রাবাজার স্থিতিশীলতা ছিল প্রয়োজন, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। যখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন ডলারের দর ছিল ১২০ টাকা; এখন তা প্রায় ১২২ টাকা এবং রিজার্ভও বেড়েছে। সুদহার কমানোর বিষয়ে সরকারের ভেতর বাইরে আলোচনা চলছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, সুদহার বাড়ানোর ফলেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্তমানে মুদ্রাবাজারে কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। আমানত হার বেড়েছে, বাজেট সহায়তার জন্য টাকা ছাপানো বন্ধ করা হয়েছে এবং ডলার বেচা বন্ধ হয়েছে। এনবিআর রাজস্ব বাড়ালে সরকারের ঋণের চাপ কমবে এবং আমানত আরও বাড়বে।

এদিকে রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি বছরে ১৫ শতাংশ রাজস্ব বাড়লেও কর-জিডিপি অনুপাত কমছে, যা ভাবনার বিষয়। তিনি মনে করেন, জিডিপি হিসাবের কোথাও ঘাটতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, এখন থেকে করছাড় আর এনবিআর স্বয়ং দেবে না, এ জন্য সংসদ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়াতে শুল্ক কমানো হবে, ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাড়ানো হবে এবং নগদ টাকার ব্যবহার কমানো হবে। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণে নেতিবাচক দিক এখনো ইতিবাচক দিকের চেয়ে বেশি।

তিনি মনে করেন, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্যতার পরিপ্রেক্ষিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অনিয়ম দেখা দিয়েছে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমেছে এবং আয় বৈষম্য বেড়েছে।