রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ওসমান হাদির বোন পাচ্ছেন গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৫:১২ পিএম

ওসমান হাদির বোন পাচ্ছেন গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিশেষ করে যারা আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন তাদের লক্ষ্য করে সুদূরপ্রসারী ‘নীলনকশা’র ইঙ্গিত পাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে হাদির এক বোনকে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স এবং সার্বক্ষণিক গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তায়ও মোতায়েন থাকবে পুলিশ।

নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টদের মতে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে যারা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলছেন তারা একটি বিশেষ ‘হিটলিস্টের’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। শহীদ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ঘটনাটি এই আশঙ্কাকে আরও দৃঢ় করেছে। কেবল হাদির পরিবারই নয় জুলাই বিপ্লবের সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সরকার কাজ শুরু করেছে।

এরই অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ সম্মুখসারির কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।একই সাথে দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ডিএমপির কাছে গানম্যান চেয়েছেন।

এছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি, বিএনপি নেতা তানভির আহমেদ রবিন, এলডিপি সভাপতি কর্নেল অব. অলি আহমদ এবং জাতীয় পার্টির জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ আরও অনেকে। অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের প্রত্যেকের আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো ধরনের নাশকতা বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঠেকিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।