জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট নিরসন এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে বেসরকারি খাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) সরাসরি এলপিজি আমদানি করতে পারবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মূলত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য বিপিসিকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং সিলিন্ডারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য বিপিসির চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে কিংবা কোনো কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বেসরকারি অপারেটররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ পায়। সরকারিভাবে এই আমদানির অনুমতি দেওয়ার ফলে সরকার এখন থেকে সরাসরি বাজার নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে পারবে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য যে, দেশে এলপিজির তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিলে গত ১০ জানুয়ারি বিপিসি জ্বালানি সচিবকে চিঠি দিয়ে আমদানির অনুমতি প্রার্থনা করেছিল। ওই চিঠিতে বিপিসি উল্লেখ করেছিল যে, সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকায় সংকটকালে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিপিসির সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমদানিকৃত এলপিজি বাজারে এলে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য কমবে এবং ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাবেন বলে জ্বালানি বিভাগ মনে করছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে আসন্ন রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি আগাম প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন