জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্ভেদ্য এলাকা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব-৭ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. মিজান এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭ এর একটি বিশেষ দল। মঙ্গলবার সকালে র্যাবের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। এর আগে গত শুক্রবার এই মামলার অন্যতম আসামি কালা বাচ্চুকে ওই একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এক দুর্ভেদ্য সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমি দখল করে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বসতি।
এই বিশাল এলাকা সীতাকুণ্ড উপজেলার অধীনে হলেও সেখানে প্রবেশ করতে হয় নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে যে টিলা কেটে প্লট বাণিজ্য ও অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখতে সেখানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী লালন-পালন করা হয়। এলাকাটি সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখে সন্ত্রাসীরা যার ফলে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের জন্য জায়গাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতেই প্রাণ হারাতে হলো দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া একজন চৌকস র্যাব কর্মকর্তাকে।
গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যায় র্যাব-৭ এর একটি দল। অভিযান শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা র্যাবের গাড়ির গতিরোধ করে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন।
তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত এই বীর কর্মকর্তার মরদেহ গত ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার নিজ বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি সন্ত্রাসীদের ধরতে জঙ্গল সলিমপুর ও এর আশেপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন