ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের নাম পরিবর্তন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান র্যাবের নতুন নামকরণ করা হয়েছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এরই মধ্যে এই নতুন নামের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আদেশ জারির পরপরই বাহিনীটি নতুন নামে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং সেই সঙ্গে সদস্যদের ইউনিফর্ম বা পোশাকেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
র্যাবের এই আমূল পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে গঠিত এই বাহিনীটি শুরুর দিকে র্যাপিড অ্যাকশন টিম বা র্যাট নামে পরিচিতি পেলেও পরে তা র্যাব করা হয়।
তবে গত কয়েক দশকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই বাহিনীটি বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর থেকেও এই বাহিনী সংস্কার বা বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছিল।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান নতুন নাম ও পোশাকের মাধ্যমে এই বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল এবং মানবাধিকার বান্ধব পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার একে পুরোপুরি বিলুপ্ত না করে একটি নতুন কাঠামোর আওতায় আনার পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে এসআইএফ গঠনের মাধ্যমে এই বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড এবং অপারেশনাল পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন