শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

জ্বালানি নিয়ে সুখবর চট্টগ্রামে পৌঁছাল বড় তেলের চালান

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

জ্বালানি নিয়ে সুখবর চট্টগ্রামে পৌঁছাল বড় তেলের চালান

সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি

সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি বিশাল ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটি বন্দরে ভেড়ার পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই জ্বালানি তেল খালাসের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যখন এক ধরনের শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। 

ঠিক তখনই অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় তেলের চালানের আগমন দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে এর আগে গত সোমবার প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছেছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও তিনটি ডিজেলবাহী বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১২ মার্চ ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে নোঙর করবে।

 এছাড়া ১৩ মার্চ ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশের জ্বালানি মজুতে যুক্ত হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক।বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের হিসাব মতে, নতুন করে আসা এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল দেশের স্বাভাবিক চাহিদার প্রায় ১২ দিন মেটাতে সক্ষম। 

তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে সরকার বর্তমানে সরবরাহে কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রতিদিনের সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে। এই সীমিত সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় থাকলে নতুন আসা জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের বাড়তি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। ফলে আসন্ন নতুন চালানগুলো বন্দরে পুরোপুরি খালাস হলে দেশে প্রায় এক মাসের নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল মজুত নিশ্চিত হবে।

বিপিসির কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে নানা চ্যালেঞ্জ ও যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজ বন্দরে ভিড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে যাতে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে এই তেলের চালানগুলো দেশে আসতে থাকলে জ্বালানি সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দ্রুত কেটে যাবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি সমন্বয় করে দ্রুততার সঙ্গে জাহাজগুলো থেকে তেল খালাসের কাজ তদারকি করছে।