শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস নামলেই কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস নামলেই কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রাজধানী ঢাকা থেকে ফিটনেসবিহীন বা লক্কড়ঝক্কড় বাস চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকালে মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। 

তিনি জানান যে সড়কে অধিকাংশ যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত বাস বিকল হয়ে যাওয়া। এই সমস্যা সমাধানে এবার বিআরটিএ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল কোর্ট মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবে। এছাড়া যেসব গ্যারেজে এই ধরনের অনুপযুক্ত বাস মেরামত করা হয় সেগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র ঈদে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে ডিএমপি। কমিশনার জানান যে বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিআরটি লেন এবং আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া সড়ক একমুখী বা ওয়ানওয়ে করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এর পাশাপাশি ঢাকা বাইপাস সড়ক সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে প্রতিটি বাস টার্মিনালে হেল্পডেস্ক স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভাড়ার তালিকা অবশ্যই দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে এবং কোনো বাসের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। টার্মিনালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ডিবি, এসবি এবং র‍্যাবের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। 

যেকোনো সন্দেহভাজন বস্তু তল্লাশিতে ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষ পরিস্থিতির জন্য সোয়াত টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এমনকি যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে অশ্বারোহী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে বলে ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন। পরিবহন মালিক ও চালকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন যে একজন চালক যেন একটানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালান। আবদুল্লাহপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদের মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ১৮ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষণা হওয়ায় যাত্রীদের চাপ কয়েক ভাগে বিভক্ত হবে বলে আশা করছে পুলিশ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন ১৬ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে অর্থাৎ প্রতিদিন ২০ শতাংশ হারে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। এতে করে পরিবহন সংকট ও সড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে মনে করছে ডিএমপি। মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।