মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ ও কষ্ট লাঘব করতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলের ওপর ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে। শুক্রবার দুপুরে যশোরে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরে ব্যাপক অস্থিরতা ও চতুর্মুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার দেশের অভ্যন্তরে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি।
কারণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন, গণপরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জনগণের ভোগান্তি যেন কোনোভাবেই না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিরাজমান উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিরসনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো প্রকৃত সংকট নেই। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত জনগণের সম্ভাব্য সব চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত তেল মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ ইতিমধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত রেখে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা ছিল, ঈদের আগে সেই চাহিদা বেড়ে প্রায় ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও কল্যাণে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার এই কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ালেও গত ১৫ বছরে অনেক প্রকৃত হকদার তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মগুরুদের সম্মানী প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড চালু করা হবে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী আহ্বান জানান যে, শুধুমাত্র সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের বিত্তবান এবং আত্মীয়স্বজনদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের হক আদায় করা উচিত।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন), পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান (টুকুন)। সরকারের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন