শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

রাতে ১১ ঘণ্টা ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার প্রস্তাব পাম্প মালিকদের

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

রাতে ১১ ঘণ্টা ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার প্রস্তাব পাম্প মালিকদের

ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষা

রাজধানীতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার অভাব এবং বর্তমান জ্বালানি সংকট বিবেচনায় রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখার এই প্রস্তাবের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। 

সভায় পাম্প মালিকরা জানান যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এই সরবরাহ ঘাটতি এবং রাতের বেলায় পাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই তারা সময়সীমা নির্ধারণের এই দাবি তুলেছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা। অনেক ক্ষেত্রে তেলের ট্যাংকারগুলো পুরোপুরি ভর্তি না করে আংশিক লোড দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে যা সরাসরি ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রতিটি ট্যাংকারের চেম্বার পূর্ণ করে তেল সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ডিপো থেকে ট্যাংকলরির ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাম্প মালিকরা মনে করেন সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন যাতে অযথা কোনো পাম্প আক্রমণের শিকার না হয়। মালিকদের ওপর একতরফা দোষ চাপানো বন্ধ করার পাশাপাশি সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এসব দাবি তুলে ধরে বলেন বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতা সাধারণকেও সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে হুড়োহুড়ি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। মালিকদের মতে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত সময়সূচি মেনে চলা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।