রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কেন হলো না নতুন পে-স্কেল? জানালেন সাবেক প্রেস সচিব

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

কেন হলো না নতুন পে-স্কেল? জানালেন সাবেক প্রেস সচিব

সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ এবং শিক্ষকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল কেন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। অর্থাভাব কিংবা পরিকল্পনার ঘাটতি নয়, বরং সময়ের সীমাবদ্ধতাকেই এই উদ্যোগ থমকে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই আক্ষেপের কথা জানান।শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে তাঁর অন্যতম বড় আক্ষেপ হলো নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে না পারা।

 তিনি জানান, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশন যথাসময়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয় এই খাত বাবদ ৩০ হাজার কোটি টাকা আলাদা করে সংরক্ষণও করেছিল। 

কিন্তু প্রশাসনিক নানা জটিলতা এবং সময় স্বল্পতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, দেশের সেবায় যারা কাজ করেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি সময়ের জরুরি দাবি।সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত ‘দুর্নীতিবাজ’ তকমা নিয়েও কথা বলেছেন সাবেক এই প্রেস সচিব। আমলাতন্ত্রে নিজের ১৮ মাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ধারণা থাকলেও অধিকাংশ সরকারি কর্মী অত্যন্ত সৎ, আন্তরিক এবং পরিশ্রমী। 

একজন সিনিয়র সচিবের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, গ্রস স্যালারি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও ট্যাক্স এবং অন্যান্য কর্তনের পর হাতে থাকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা (যা ১ হাজার ডলারের সমান)। ভারতের সমমানের কর্মকর্তাদের তুলনায় বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা অনেক কম বলে তিনি মন্তব্য করেন।নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি সাধারণ জীবনযাপন বজায় রাখতেই তাঁকে প্রতি মাসে নিজের সঞ্চয় থেকে টাকা খরচ করতে হয়েছে। 

বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে সরকারি কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, বিদেশ সফরের সুযোগ বা ভাতা—কোনোটিই একজন কর্মীর দৈনন্দিন অভাব মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।পরিশেষে, আসন্ন বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন যথাযথভাবে বাড়ানোর জন্য নতুন সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুল আলম। তাঁর মতে, সরকারি কর্মীদের বেতন বৈষম্য দূর করা না হলে কর্মস্পৃহা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার এই সংবেদনশীল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে আগামী বাজেটে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা দেবে।