রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আবার ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে:হাসনাত

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

আবার ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে:হাসনাত

সংসদে ভাষণ দিচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। তিনি দাবি করেছেন, দেশে আবারও একটি ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশার পরিপন্থী। 

রোববার বিকেলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা এই সংসদে কেবল মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং ‍‍`দ্বিমত‍‍` প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে লিখতে চাই, আমরা লেখার সময় বারবার ‍‍`ব্যাকস্পেস‍‍` ব্যবহার করে শব্দ মুছে ফেলতে চাই না।" 

তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৯টি এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তরুণ এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সংসদ গঠিত হলেও এটি আবারও সেই পুরনো ‘ভিসিয়াস সাইকেল’ বা দোষারোপের রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। বিরোধী মত দমনের জন্য মামলার সংস্কৃতি আবারও চালু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবারও সেই ‍‍`গেস্টরুম‍‍` ও ‍‍`গণরুম‍‍` কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ক্ষমতাবানরা তাদের গদি শক্ত করার যে সংস্কৃতি চালু করেছিল, তার পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নেতা উৎপাদনের সার্কেল না বানিয়ে গবেষণা ও পাঠ চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।"মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সংস্কার নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ সংস্কারের অর্ডিন্যান্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, "সরকারি ও বিরোধী দল একটি আপেক্ষিক বিষয়। আপনারা আজ ওপাশে আছেন, কাল এপাশে আসতে পারেন। প্রজন্মের ভাষাকে বুঝতে হবে।" তিনি সংসদ সদস্যদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও গাড়ির আয়েশ ছেড়ে সাধারণ মানুষের লোডশেডিং ও যাপিত জীবনের সমস্যাগুলো অনুধাবন করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে তিনি বিভাজনের রাজনীতির বিপক্ষ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আবারও বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দল নয় বরং জুলাই বিপ্লবে যারা পরাজিত হয়েছে তারাই লাভবান হবে। ৩৬শে জুলাইয়ের যে স্বপ্ন নিয়ে তরুণ প্রজন্ম লড়াই করেছিল, সেই কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য তিনি সকল দলের প্রতি আহ্বান জানান।