রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়, সবার জন্য সমান অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়, সবার জন্য সমান অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না এবং অতীতেও কখনো তা করেনি। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি এবং বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল নীতি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমাসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার ও মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকার মতো নীতিগুলো কেবল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা অনুসরণ করেন, তবে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের প্রধান অঙ্গীকার হলো এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারবেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই সময় কে কোন ধর্মের বা কে বিশ্বাসী আর কে অবিশ্বাসী—তা কোনো বিচার্য বিষয় ছিল না। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ সবার।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হলো ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। এটি দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার এবং আমরা প্রত্যেকেই গর্বিত বাংলাদেশি। বৌদ্ধ পূর্ণিমার এই দিনটি সবার জীবনে আনন্দময় হয়ে উঠুক বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।